,

‘সফলতা সব তোমাদের, ব্যর্থতা সব আমার’

প্রিয় সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ, সিলেট পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট।

সফলতা সব তোমাদের, ব্যর্থতা সব আমার

একসময় ছিলো নিজেকে অনেক শক্তিশালী ভাবতাম। ভাবতাম তোমরা সবাই আমার পাশে আছো সবসময়। ডিপ্লোমা পড়ার শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের যেকোনো বিপদ-আপদ হোক সবসময় নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে সাহায্য করার চেষ্টা করেছি। প্রতিষ্ঠানে ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ কর্তৃক যে কেউ নির্যাতিত হলে সবসময় সবার আগে নির্যাতিত শিক্ষার্থীদের পাশে দাড়িয়েছি এমনকি প্রতিবাদও করেছি। ২০১৭ সালের শুরুর দিকে ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের এক ছেলে এসে আমাকে বলে সামান্য ফ্যানের সুইচ দেয়ার বিষয় নিয়ে সুরমা হোস্টেল এর এক ছাত্র তাকে মারার হুমকি দিয়েছে। আব্বু, বড় ভাইয়াকে নিয়ে বিষয়টি সমাধান করি এবং যে অন্যায় করেছিলো সে তার ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমাও চেয়ে নেয়। ঐ বছর ইলেকট্রিক্যাল ও কম্পিউটার বিভাগের দুজন করে মোট চারজন ছাত্র এসে আমাকে বলে, কলেজ থেকে মাইগ্রেশন করতে এবং ট্রান্সফারের অনুমতি পত্র নিতে হলে নেতাদের ‘টাকা’ দিতে হয়। অধ্যক্ষ পর্যন্ত তাদের সমীহ করে চলেন। ট্রান্সফারের অনুমতি পত্রে অধ্যক্ষ সাক্ষর করলেও টাকা দিতে হয় নেতাদের। অধ্যক্ষ সাক্ষর দিয়ে পরে বলে দেন কেউ যেনো না দেখে। ট্রান্সফারের কাগজ সাক্ষর হয়ে গেলেও কলেজ থেকে নিয়ে আসতে পারবে না কারণ সুরমা হোস্টেলের ওরা গেইটে বসে আছে কাগজ ছিঁড়ে ফেলবে এই ভয়ে। আমাকে নিজ সন্তানের মতো যারা আদর করেন ইলেকট্রিক্যাল ও কম্পিউটার বিভাগের স্যার আমাকে ফোন দিলে আমি ওই চার ছেলেকে আমার বাসায় রেখে ঠাঁই দিয়ে তাদের ট্রান্সফারের বিষয়টাও সমাধান করি। ওই বছরেই আমার সিলেটের গোলাপগঞ্জের এক ছেলের চিকিৎসার সাহায্যের জন্য আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে সকল সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাহায্যে ১২ হাজার টাকা সংগ্রহ করে দেই। ঐ বছরই সাধারণ ছাত্রদের রেগুলার এর টাকা নিয়ে অনেক গড়িমসি করে আমাদের কলেজ কর্তৃপক্ষ। আমার সাংবাদিক বড় ভাইয়ার মাধ্যমে এই বিষয়টিরও সমাধান করি। ২০১৭ সালের সর্বশেষ ঘটনা অগ্রণী ব্যাংকের সামনে যখন সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তির টাকা তুলতে যায় তখন তাদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করতে চেয়েছিল পলিটেকনিক ছাত্রলীগ। দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশের সাহায্যে সেদিনও তাদের পাশে দাঁড়াই। ২০১৮ সালে উপরের ঘটনাবলির অনেক পুনরাবৃত্তি ঘটে। ওই বছরের স্বচক্ষে দেখা একটি ঘটনা যখন আমার স্মৃতিচারণ হয় আমার শিরা-উপশিরা এখনো শিহরে উঠে। ঘটনাটি প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় ঘটে অধ্যক্ষ মহোদয়ের রুমের ঠিক সামনে। আমি ক্লাস শেষ করে মাইক্রো ল্যাব থেকে অধ্যক্ষ স্যারের রুমের ঐদিকে আসছিলাম হঠাৎ সাধারণ শিক্ষার্থীদের চিৎকার শুনতে পাই। কিভাবে নিজেকে আটকে রাখি আমিও এগুলাম। গিয়ে দেখি সুরমা হোস্টেলে বসবাসকারী ছাত্রলীগের ২৫ থেকে ৩০ জন ৩-৪ ফুট লম্বা দা, হকিস্টিক, জিআই পাইপ দিয়ে কম্পিউটার বিভাগের একজন ছাত্রকে মাটিতে ফেলে এমনভাবে মারছিল দেখে মনে হয় মানুষ একটা হিংস্র প্রাণীকেও এভাবে মারধর করবে না। অধ্যক্ষ মহোদয় মারামারি দেখে দরজা বন্ধ করে ভিতরে ঢুকে যান। ওইদিন আমার সাহস দেখে রাহি নামের এক ছেলে আমার সাথে অন্যায়ের প্রতিবাদ করার জন্য আওয়াজ তোলে। আমি আজও ওর প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি ও রাহি ২৫ থেকে ৩০ জনের মাঝে গিয়ে নিজেদের সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করে ওই ছেলেটিকে আল্লাহর রহমতে উদ্ধার করে নিয়ে আসি। ওইদিন অধ্যক্ষ স্যারের ভূমিকা ছিলো নিশ্চুপ। যাইহোক আব্বু, বড় ভাইয়াদের নিয়ে অধ্যক্ষ স্যারের কাছে গেলে ছাত্রলীগ ও অধ্যক্ষ স্যারকে আব্বুর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হয়। ছাত্রলীগ কর্তৃক আমাদের কলেজে অনেক ছাত্রীকে হয়রানির শিকার হতে হয়। ঘটনাবলির বর্ণনা দিতে চাই না। এক কথায় বলতে চাই একদিন একজন অভিবাবক আমাকে এসে বলেন, বাবা আমি অভিবাবক সাথে এসে যদি আমার মেয়েকে এরকম ডিস্টার্ব ফিল করতে হয় তাহলে যাদের অভিবাবক সাথে নেই তাদের কি হবে…? ঐ বছরই একটা ছেলেকে নিজের সবচেয়ে পাশে জায়গা দিয়েছিলাম, বন্ধুর উপরে নিজের ভাইয়ের মর্যাদা দিয়েছিলাম, বাসায় নিয়ে আব্বুর সাথে পরিচয় দিয়ে বলেছিলাম আজ থেকে ও আমাদের আরেকটি ভাই। কলেজে গিয়ে সবার সামনে আমার আব্বুও বলেছিলেন এই ছেলেটা আমার ছেলের মতো যদি কেউ তার শরীরে আঘাত করো মনে করো আমার ছেলে নাঈমের শরীরে আঘাত করেছো। কিন্তু ছাত্রলীগের সাথে মিলে আমার দুর্বলতা দেখে আমাকে অনেক বেশি আঘাত করে। ঐ বছরে আমার উপর যে হামলা হয়েছিলো সেটিও তার আর সুরমা হোস্টেল ছাত্রলীগের মদদে হয় তারও চাক্ষুষ প্রমাণ আমি পাই। ওই বছর সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে সিরিয়ায় হত্যাযজ্ঞ বন্ধের দাবীতে সিলেটে প্রথম আমাদের কলেজ ক্যাম্পাসের সামনে মানববন্ধন করি। যেটা স্বার্থক হয় যখন দেখি আমাদের মানববন্ধনের নিউজটা যুগান্তর পত্রিকাও কাভার করেছে। ঐ বছরে একটি একটি করে তথ্য সংগ্রহ করি অধ্যক্ষ স্যারের দুর্নীতির। উনার এই দুর্নীতি নিয়ে তিনটি নিউজও করি। ‘প্রতিষ্ঠানের পুকুর থেকে মাছ চুরির অভিযোগ’ ‘লাখ টাকা দুর্নীতির অভিযোগ’ ‘সাধারণ ছাত্রদের মারধর, অধ্যক্ষের নিরব ভূমিকা’ ‘পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে নানা সমস্যা ও অনিয়ম।’ ওই বছরে অনিয়মভাবে এডমিট কার্ড এর ৩০টাকা নেয়া হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে আওয়াজ তুলি এই অনিয়মের বিরুদ্ধেও। আল্লাহর রহমতে আন্দোলন বিফলে যায়নি। অধ্যক্ষ মহোদয় বাধ্য হন সবার টাকা ফিরিয়ে দিতে। নতুন বছরে ছয়জন শিক্ষার্থীদের ট্রান্সফার করিয়ে দেই। এই ছয়জন শিক্ষার্থী একদিন এসে বলে সুরমা হোস্টেলের ছাত্ররা তাদের কাছে ২০ হাজার টাকা করে দাবি করেছে ট্রান্সফারের বিনিময়ে। আমি বিষয়টি বড় ভাইয়াকে বললে বড় ভাইয়া অধ্যক্ষ স্যারকে বলে তাদের ট্রান্সফারের বিষয়টাও সমাধান করে দেন। এই সফলতা আমি তোমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের উৎসর্গ করতে চাই। তোমাদের জন্যই এটা অর্জিত হয়েছে।

 

ব্যর্থতা: ক্যাম্পাসে গেইটের পাশে ছাত্রলীগের ‘দেবা উদ্যান’ নামে একটি জায়গা রয়েছে যেখানে বসে ক্ষমতাসীনরা সাধারণ শিক্ষার্থীদেরকে ডেঁকে নিয়ে তাদের চাল-চলন, আচার, ব্যবহার পোশাক-আশাক সম্পর্কে বিভিন্ন খারাপ মন্তব্য করে। আব্বুর সাথে কথা বলে কয়েকদিনের জন্য সরাতে পারলেও পুলিশ প্রশাসন দিয়ে তারা আবার বসে যায়। ২য় শিফটের শিক্ষার্থীদের জন্য চেয়েছিলাম পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ করতে, স্যাতস্যাতে ওয়াশরুম থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি শ্রেণীকক্ষের লাইট, ফ্যান এর উন্নয়ন করতে। আমি চেয়েছিলাম আমাদের প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, ক্বিরাত ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করতে। ক্যাম্পাসে ক্যান্টিন ও পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা করতে। প্রতিষ্ঠানে সর্বসাধারণ শিক্ষার্থীদের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে। চেয়েছিলাম ছাত্রীদের জন্য কমনরুমের সংখ্যাও বাড়াতে। চেয়েছিলাম প্রতিষ্ঠান থেকে নকল প্রতিরোধ করতে, সব শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে।

ভেবেছিলাম এই কাজগুলো করেই পড়ালেখা শেষ করে বিদায় নিব সিলেট পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট থেকে। কিন্তু ব্যর্থতাই মাথা পেতে বরণ করে নিতে হলো। এতোদিন প্রতিষ্ঠানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য এতো কিছু করলাম কিন্তু ব্যর্থতা কেন…? উত্তরটা খোঁজে পাই এরকম ‘অধ্যক্ষ স্যার আমাকে বললেন, তুমি সব আন্দোলনই একাই করেছো। তুমার পেছনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাপোর্ট নেই। তুমি কোনো কিছুই করতে পারবে না। অন্যদিকে যখন ছাত্রলীগ আমার কাছে আসে তাদের সাথে সুরমা হোস্টেলের ২ থেকে ৩শ ছাত্র থাকে। আমাকে তাদের কথাই শুনতে হবে।’ কিন্তু আজ পর্যন্ত আমি যা কিছু করলাম সবকিছুই ছিলো অন্যসব সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য। ছাত্রলীগ আজ পর্যন্ত আমার দিকে চোখ তুলেও থাকায়নি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের হয়রানি করলে যথাসাধ্য বিপদে তাদের পাশে দাড়িয়েছি। তাহলে আমার পেছনে কেনো শিক্ষার্থীরা নেই। কারণ আমি পারবো না আমাদের কলেজে ছাত্ররাজনীতি করার নামে ছাত্রলীগের মতো সন্ত্রাসী কাজ করতে। আমি পারবো না ছাত্রলীগের মতো সাধারণ শিক্ষার্থীদের থাপ্পড় দিয়ে বলতে, দেখছিস না নেতা আসছি সালাম দিলি না। আমি পারবো না ছাত্রলীগের মতো রেজাল্ট আটকে দিবো এরকম হুমকি দিতে। আমি পারবো না শিক্ষার্থীদের ক্লাসে গিয়ে স্যারের সামনে তাদেরকে হুমকি দিতে। কিভাবে করবো এই কাজগুলো..? কারণ, এরকম পারিবারিক শিক্ষা আমি আমার পরিবার থেকে পাইনি। চকবাজারে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ২৩ ফেব্রুয়ারি শনিবার উদ্যোগ নেই আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একটি উন্মুক্ত স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল করবো। আগের দিন ছিল শুক্রবার। কোথাও প্রিন্টার্স ঘর খোলা নেই। ৩ থেকে ৪ ঘন্টা খোঁজাখুজির পর অনেক কষ্টে একটা ফেস্টুন তৈরি করি। মাইক ভাড়া করতেও এমনি দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অবশেষে আল্লাহর রহমতে ব্যবস্থা করে নেই। আগেরদিন শুক্রবার রাত আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রত্যেকজন স্যার/ম্যাডামকে ফোন করে সকালের উন্মুক্ত স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিলের দাওয়াত দেই। অধ্যক্ষ স্যার অনুমতিও দেন। প্রমাণস্বরূপ সবার কল রেকর্ডিং আছে। এমনিতে যখন অন্য সব সাধারণ শিক্ষার্থী অধ্যক্ষ স্যারের সাথে যখন উনার রুমে দেখা করতে যায় তখন উনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের উনার রুমে প্রবেশই করতে দেন না। কিন্তু ২৩ ফেব্রুয়ারি আমাদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রোগ্রাম ছিল বলে কথা। অধ্যক্ষ স্যার শনিবার দিন সকাল ৮টায় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ২ঘন্টা আগে থেকেই বসেছিলেন আমাদের প্রোগ্রামটি নষ্ট করার জন্য। সব স্যার/ম্যাডাম শিক্ষার্থীরা ঠিক সময়মত এসে উপস্থিত প্রোগ্রামের জন্য। অধ্যক্ষ স্যার প্রোগ্রামের জন্য না বললে স্যারের সাথে আমার বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। শুধু আমিই কথা বলছি। আফসোস ওইদিন একটিও সাধারণ শিক্ষার্থী এক মুহুর্তের জন্যও প্রতিবাদ করলো না। ওইদিন প্রমাণ হলো আসলেই আমি ব্যর্থ। নিজের কাছে মনে হলো ওরা আমার সাথে প্রতারণা করলো না তো। আমি স্যারকে একটি কথা বলেছিলাম ওইদিন, স্যার আপনার ছাত্রলীগের ব্যানারে ফুল দিতে কোনো আপত্তি নেই কিন্তু আমাদের এই প্রোগ্রামটা অনুমিত দিয়েও হঠাৎ এভাবে না করার মানে কি…? ওইদিন সবার যাওয়ার পর ওই একটি কথার জন্য সব স্যার ম্যাডাম বিভাগীয় প্রধানদেরকে নিয়ে অধ্যক্ষ স্যার আমার উপর বিচার বসান অডিটোরিয়ামে। কয়েকদিন আগে স্যারকে বলেছিলাম আমাদের অডিটোরিয়ামে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধান অতিথি করে একটি শিক্ষা বিষয়ক সেমিনার আয়োজন করতে চাই। স্যার ছাত্রলীগের বিষয় টেনে এটাও নাকচ করে দেন। কিন্তু এটা ভাবিনি অডিটোরিয়ামে একদিন আমার বিচারের জন্যও সভা বসবে। যাই হোক আমার অভিবাবককেও ডাকা হলো। আমার শক্তি, আমার অনুপ্রেরণা আমার বড় ভাইয়ারা আসলেন। আমার পেছনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাপোর্ট নেই বক্তব্যে কথাটি বলেন অধ্যক্ষ স্যার। আমার পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন আমার বড় ভাইয়া সাংবাদিক মো.নুরুল ইসলাম। অধ্যক্ষ স্যার যেটি বলতে চেয়েছিলেন নাঈম যেনো আর কোনো কিছুতে কথা না বলে। আমার ভাইয়া আমার হয়ে ওয়াদাবদ্ধ হন আমার ছোট ভাই কলেজের আর কোনো বিষয়েও কথা বলবে না। অন্যায় হলেও তার প্রতিবাদ করবে না। আরেকটি কথা বলেছিলেন ভাইয়া, গর্ব করে আমি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি আমার ছোট ভাই নাঈম কারোর সাথে কোনোদিন বেয়াদবি করবেনা। অন্যায়ভাবে কথাও বলবে না। অন্যায় দেখলে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারে। কিন্তু আজকের পর থেকে কলেজের কোনো বিষয়েও নাঈম কথা বলবে না। অধ্যক্ষ স্যার যখন আমাকে শহীদ মিনারে না বললেন ওইদিন তোমারা সাধারণ শিক্ষার্থীরা মিলে যদি আওয়াজ তুলতে আমার সাথে আজ হয়তো তোমাদের উদ্দেশ্যে আমার শেষ লেখাটা লিখতে হতো না। তবুও কিছু বলতে চাই, মহান রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে সৃষ্টি করার সময় পৃথিবীতে আশরাফুল মাখলুকাত অর্থাৎ সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে প্রেরণ করেছেন। তোমরা মানুষ রূপের সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই কাপুরুষতা দেখে হয়তোবা তিনি বলবেন, পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর মানুষ রূপ দিয়ে পাঠিয়েছিলাম এখন দেখলে তাদেরকে কীটপতঙ্গ মনে হয়। হাত আছে ভিক্ষা চাওয়ার জন্য, মুখ আছে আহাজারি করার জন্য। করে নিব, কিন্তু অন্যায়ের প্রতিবাদ করবো না। কেনো করবো, আমরা সাধারণ মানুষ দু-বেলা, দু-মুঠো খেঁয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়ে চলে যেতে চাই। যতক্ষণ পর্যন্ত কেউ আমার পরিবারের কারোর সাথে সমস্যা না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত প্রতিবাদ করবো না। যদি কেউ আমার সামনে অন্যের বোনকে ধর্ষণও করে নেয় তাও প্রতিবাদ করবো না যতক্ষণ পর্যন্ত আমার বোনের সাথে করবে না। এটাই হলো আমাদের বর্তমান সমাজে বসবাসরত সাধারণ মানুষের অবস্থান। তোমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই কাপুরুষতা একদিন তোমাদের জন্যই কাল হয়ে দাড়াবে। কিন্তু কিভাবে তোমাদের খারাপ চাই বলো। তোমাদের জন্য দোয়া রইল সবসময় যেন আল্লাহ তোমাদের পাশে থাকেন। চেষ্টা করো একে অন্যের বিপদে ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকার। ভেবেছিলাম আমি তোমাদেরই একজন হয়ে সর্বসাধারণ শিক্ষার্থীদের একজন হয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে প্রতিনিধিত্ব করবো এবং বিজয়ী হওয়ার পর তোমাদেরকে সাথে নিয়েই এই ব্যর্থতাগুলা কাটিয়ে উঠবো এবং তোমাদের প্রাপ্য সব অধিকার আদায় করে দিবো। আমি এটাও জানি তোমরা অনেক সাধারণ শিক্ষার্থী চাইলেও আমার পাশে থাকতে পারবে না শুধু একটি ভয়ে অধ্যক্ষ স্যারের হাতে কলম, রেজাল্ট উনারই হাতে। আমি নির্বাচনে দাড়ানোর পর হয়তো তোমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা চাইলেও আমাকে ভোট দিতে পারবেনা ওই একই রেজাল্ট আর হুমকির ভয়ে। আমি জানি ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬৯’র গণ আন্দোলন, ৭১’র স্বাধীনতা যুদ্ধ, ৯০’র স্বৈরাচারী আন্দোলন সবই সফলতা এনে দিয়েছিলো সাধারণ ছাত্রসমাজ। আমি বিশ্বাসী আমাদের বেলাও হবে যদি তোমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা মাথা উঁচু করে একটিবার সাহস করে প্রতিষ্ঠানে অন্যায়ের প্রতিবাদ করো। অবশ্যই অধ্যক্ষ স্যার তখন তোমাদের কথা শুনবেন। রেজাল্ট এর ভয় দেখালে তোমরা জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি পেশ করবে। সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করবে। বিষয়টি মিডিয়ায় ভাইরাল করবে। তখন অবশ্যই স্যারকে সত্য ও ন্যায়ের কাছে মাথা নত করতেই হবে। আমি যথাসাধ্য তোমাদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। সব সফলতা তোমাদের আর ব্যর্থতা সব নিজের কাধে করেই নিয়ে গেলাম। ভালো থেকো, আল্লাহ হাফিজ।

 

ইতি
তোমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদেরই একজন
মো.নাঈমুল ইসলাম
ছাত্র সংগঠক ও সাংবাদিক।



এ সংবাদ 990 জন পাঠক পড়েছেন
Social Media Sharing

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

সর্বশেষ শিরোনাম

সম্পাদকঃ মো.নাঈমুল ইসলাম
Email:naimulislam101@gmail.com
01754859801

Web- www.sylhetsangbad24.com, FB Page:Daily Amadershopno. এশিয়া ইন্টান্যাশনাল মার্কেট, জিন্দবাজার, সিলেট।
শিরোনাম :
বাণিজ্য মেলার দ্বিতীয় দিনের র‌্যাফেল ‘ড্র’ এর বিজয়ী যারা খাদিমপাড়া ইউপিএল ইউনিটি প্রিমিয়ার লীগে বিজয়ী এআর আব্দুল্লাহ ফাইটার আজ সিলেট আসছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন মহানগর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি সনি গ্রেফতার : বিএনপির নিন্দা সাবির আলীর কবিতা ওসমানীনগর আমিনুর রহমান ৪ দিন যাবত নিখোঁজ হাজারো শিক্ষার্থীর মিলনমেলায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এমপি কয়েস হৃদয়ে ৭১ ফাউন্ডেশনের ১৫৬তম পাঠচক্র অনুষ্ঠিত লন্ডনে অসুস্থ্য সেজে সরকারি ভাতা নিচ্ছেন সিলেটের কোটিপতি আসলম সিলেটে আনন্দ শোভাযাত্রায় স্বাধীনতার মাসকে বরণ জুড়ীতে ভাবীর প্রতীক নৌকা দেবররে প্রতীক আনারস রাতারাতি হিরো ইমরান, ভিলেন মোদি! ‘সফলতা সব তোমাদের, ব্যর্থতা সব আমার’ ১ম এসপিআই (সিলেট পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট) বিভাগীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-১৯ আগামী ২ মার্চ খেলাধুলা সমাজের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখে- যুবলীগ নেতা তারেক অবশেষে সুনামগঞ্জে প্রার্থী পরিবর্তন, চপলের বদলে মোবারক ৩২৮৫ দিন পর মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রদল সিলেটে হোম ভেন্যুর দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামছে শেখ রাসেল কাদিয়ানীদের জলসা নিয়ে সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক জলপ্রপাতে ময়লার স্তুপ, পরিষ্কারে নেমে পড়লেন দুই বিদেশী পর্যটক প্রধানমন্ত্রী জার্মানি সফরে যাচ্ছেন কাল প্রাণ খুলে তাই কবির ভাষায় বলা যায়, ‘আহা আজি এ বসন্তে শুভ জন্মদিন শাবিপ্রবি বানিয়াচংয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১২ বানিয়াচংয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১২ সিলেটে বাণিজ্য মেলা বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন কানাইঘাটের ‘লম্পট-মামুতাবলীগ জামায়াতের লেবাসে , চার্জশিট দাখিল দেশে প্রতি বছরে ক্যান্সারে মারা যান ৮৯ হাজার মানুষ কমলগঞ্জে ইয়াবাসহ আটক ১ সিলেটের দিনকাল-এর বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শিক্ষানবিশ প্রতিনিধি আবশ্যক মহানগর ছাত্রদল নেতা রাজ আহমদ জালালের বাসায় পুলিশী তল্লাশীর নিন্দা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জাকারিয়ার বিরোদ্ধে মিথ্যে মামলা: আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নিন্দা ৬ দশক ধরে আমার পরিবার সবসময় জনগণের পাশে থাকার চেষ্ঠা করেছে: ফজলে রাব্বী ডিজিটাল বাংলা গড়তে প্রকৃত মেধাবীদের মূল্যায়ন ব্যতীত বিকল্প পথ উন্মুক্ত নেই- ইউএনও আয়েশা হক জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি কালাম ও বালাগঞ্জ যুবদল নেতা রিমনসহ ২১৫ জনের জামিন কোম্পানীগঞ্জে ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়তে চান যুবলীগ নেতা জুয়েল দৈনিক সিলেটের দিনকাল’র সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিকে পিজিআইসি’র সংবর্ধনা সিলেটের দিনকাল-এর সম্পাদকম-লীর সভাপতি বেলালকে পরিচালনা পরিষদের সংবর্ধনা সিলেটের দিনকাল-এর বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শিক্ষানবিশ প্রতিনিধি আবশ্যক সোনার বাংলা গড়তে নতুন প্রজন্মকে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রস্তুত হতে হবে- যুবলীগ নেতা তারেক সিলেট পৌঁছে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা বালাগঞ্জের পথে ড. মোমেনকে স্বাগত জানাতে আওয়ামী লীগের প্রস্তুতি বেড়েছে ছিনতাই, আতঙ্কে নগরবাসী খালেদা জিয়ার বাড়ী উচ্ছেদ মামলার বিচারপতির বাড়ীতে ভুড়ি ভোজ করবেন ঐক্যফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ! সংবাদকর্মী হিসেবে কাজ করার সুযোগ ও তিন জেলা প্রতিনিধি আব্যশক যুবদল নেতা আদিল আহমদ রিমনের বাসা-বাড়িতে হামলা ও পুলিশী তল্লাশি: যুবদলের নিন্দা সংরক্ষিত সাংসদ হতে তৎপর সিলেটের এক ডজন নারী নেত্রী গোলাপগঞ্জে বাস-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২ রবিবার সিলেট আসছেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা, প্রতিবাদে কলাম লেখকের ক্ষোভ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে যাত্রা শুরু করছে ফেঞ্চুগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়